সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাতক্ষীরাবাসীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি পূরণ হচ্ছে। সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এমনই সুখবর দিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দময় এ খবর দিয়ে জানান, সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদয় অনুমোদন দিয়েছেন। এ সংবাদে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার গত ৭ মার্চ তারিখের এক পত্রে বলা হয়, ‘ফেব্রুয়ারি-২০২১-এর প্রথম পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাব বাস্তবায়ন বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন দিয়েছেন।’ একই সঙ্গে অনুশাসন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী।

এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ মো. আনিসুর রহিম বলেন, ‘সাতক্ষীরায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে জেলা নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ জাসদ, সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি, সাতক্ষীরা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুশাসন দিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা সাতক্ষীরাবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে খুশির খবর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।’

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে দেশ আজ উন্নয়নশীল হয়েছে। সাতক্ষীরায় মেডিক্যাল কলেজ, বাইপাস সড়ক, রেল লাইন, ভোমরা বন্দর, টিআরএম, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ হাজারও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। সাতক্ষীরাবাসীর আরও একটি স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরাবাসির সে দাবিও পূরণ করে জেলাবাসীকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। উন্নয়নের ধারা এভাবে অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অচিরেই সাতক্ষীরা আত্মপ্রকাশ করবে।’

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন লিখেছিলাম। জেলার বিভিন্ন সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে আমরা পাক্ষিক প্রতিবেদন লিখে থাকি। ওই প্রতিবেদনে লিখেছিলাম, সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। তাহলে এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের জন্য খুলে যাবে উচ্চশিক্ষার দুয়ার। প্রস্তাবটি পাঠানোর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা অনুশাসন দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। এজন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার মাননীয় সংসদ সদস্যরা পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করলে অচিরেই স্বপ্নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। অনুশাসনের মাধ্যমেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। তবে অগ্রগতির বিষয়ে যোগাযোগ রাখতে হয়।’

এ বিষয়ে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সব মানুষের খোঁজ-খবর রাখেন। সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। তিনি স্ব-উদ্যোগে সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি এ দাবি পূরণ করেছেন বলে আমরা সাতক্ষীরাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *