সাকিব ফিরলেন জয় করলেন

আজ স্বরুপে ফিরেছেন সাকিব, একপাশ আগলে রেখে অনবদ্য ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে সিরিজ জয় করে মাঠ ছাড়লেন সাকিব।

বেশ কয়েক ইনিংস রান খরায় সাকিব, মুখিয়ে ছিলেন পুরোনো রুপে ফেরার। শেষ ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেও মাত্র ১৯ রান করে মাঠ ছেড়েছিলেন, শেষ ৪ ইনিংসে ১৫, ০, ৪ ও ১৯ রান- সাকিবের সঙ্গে যেন খুবি বেমানান। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আগে বিশ্বকাপে তাঁর স্বপ্নের ফর্মটাই যেন প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল আরও। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মোটামুটি শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৪১ রানের লক্ষ্য কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ভুলে সেই সহজ কাজটাই কঠিন করে তুলল বাংলাদেশ দল। আর কঠিন সময়ের পুরোটা জুড়ে বাংলাদেশের কান্ডারি ছিলেন সাকিব আল হাসান।

তাঁর অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংসে শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচটা ৩ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ সিরিজ জিতে নিয়েছে এক ম্যাচ হাতে রেখেই।

২৪১ রানের লক্ষ্যে নেমে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগানো আর আবার উইকেট পতনে খেই হারিয়ে বসে সফরকারীরা। জয় থেকে ৬৮ রান দূরে থাকা অবস্থায় সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে বাংলাদেশ ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জেতান সাকিব।

অথচ বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা দিচ্ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা। তামিম ইকবাল ও লিটন দাস মিলে প্রথম উইকেট জুটিতে ৩৯ রান যোগ করেন ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলে। লিটন সময় নিয়ে খেলছিলেন। কিন্তু তামিম বাউন্ডারি খুঁজে নিচ্ছিলেন কিছু ছবির মতো ড্রাইভ ও কাট শটে।

এরপর প্রথম ম্যাচের পর কাল আরেকবার মুশফিকুর রহিমের শুন্যতা টের পেল বাংলাদেশ। চারে নামা মোহাম্মদ মিঠুন ঠিক প্রথম ম্যাচের মতোই বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এলেন। এরপর রান আউট হলেন পাঁচে নামা মোসাদ্দেক হোসেন। মোসাদ্দেক ৯ বলে ৫ রান করে আউট হলে চোখের পলকে ৩৬ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলের রান তখন মাত্র ৭৫!

টপ অর্ডারের ছোট্ট ধসটা থামান সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। এক-দুই রানের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের আলগা কিছু বলের সুবিধা নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন দুই অভিজ্ঞ। ডানহাতি ও বাঁহাতি সমন্বয়ও সাহায্য করে জুটি গড়তে। মনে হচ্ছিল প্রথম ম্যাচের মতো বাংলাদেশ বিপদমুক্ত হবে এই জুটির কল্যাণে। কিন্তু মাঝের ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসেই খেলা পাল্টে দিলেন জিম্বাবুয়ের স্ট্রাইক বোলার মুজারাবানি।

২৯তম ওভারে তাঁর ক্রস-সিমের বাড়তি বাউন্স মেশানো বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। ৩৫ বলে ২৬ রান করে আউট হলে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর ৫৫ রানের জুটি। তখন বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৩০ রান।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে রানের গতি কিছুটা কমলেও হাল ছাড়েননি সাকিব। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েন। মিরাজ বাকি ব্যাটসম্যানদের মতো ভুল শটে আউট হন (১৫ বলে ৬)।

তবে খুব একটা দুশ্চিন্তা করার মতো বিপদ তখনও হয়নি। আগের ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করা আফিফ হোসেন ক্রিজে এসে খেলছিলেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু আফিফের (২৩ বলে ১৫) সঙ্গে সাকিবের জুটিও দীর্ঘ হয়নি। আফিফের শট নির্বাচনের ভুলে ২৮ রানে ভাঙে জুটি। জয় থেকে বাংলাদেশ তখনও ৬৮ রান দূরে। ওভার হাতে আছে আরও ১২টি। কিন্তু উইকেট যে হাতে আর তখন ৩টি!

সেখান থেকে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সাকিব গড়েন ম্যাচের সেরা জুটি। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৬৪ বলে ৬৯ রান যোগ করেন দুজন। সাকিব ৯৬ রানে ছিলেন অপরাজিত। অপরাজিত ২৮ রানে দারুণ নির্ভরতা আসে সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে। অতটুকুই তো দরকার ছিল সাকিবের! পাশে একজন সঙ্গীর নির্ভরতা পেয়ে অভিজ্ঞতার সবটুকু কাজে লাগিয়ে ম্যাচ বের করে এনেছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

শেষ দিকে তাঁর সেঞ্চুরি নিয়ে সম্ভাবনার দোলাচল ছিল। শেষ ওভারে যখন ৩ রান দরকার, সাকিব যখন স্ট্রাইকে, তখনো অঙ্কের হিসাবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মুজারাবানির প্রথম বলেই চার মেরে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা শেষ করে দিলেন সাকিব। দলের জয়টাই যে তাঁর কাছে আগে!

এমন ব্যাটিংয়ের পর সাকিবের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকারই প্রশ্ন ওঠে না! এর সঙ্গে বোলিংয়ে সাকিবের দুই উইকেট যোগ করে নিন, ম্যাচসেরা আর কে হতে পারতেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *