রাজনীতির গোলামী করতে করতে আমরা নিজেদের জাত পরিচয়ই ভুলে গেছি: বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা!

গতকাল ভাস্কর্য নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা খালেদ খান রবিনকে বহিষ্কারের পর তার আরও একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে৷

সেই স্ট্যাটাসে খালেদ খান রবিন মনে করিয়ে দিয়েছেন,

রাজনীতির গোলামী করতে করতে আমরা নিজেদের জাত পরিচয়ই ভুলে গেছি।

রিয়েল সিলেটের পাঠকদের জন্য খালেদ খান রবিন এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

“রাজনীতির গোলামী করতে করতে আমরা নিজেদের জাত পরিচয়ই ভুলে গেছি।

দিনশেষে ঐ হুজুর রাই আপনাদের জানাজার নাম পড়াবে, আপনার জন্য মাফ চাবে…….. আফসোস।”

এর আগে,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাস্কর্য নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ খান রবিনকে স্থায়ী বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ! ছাত্রলীগের পক্ষ্য থেকে জানানো হয়,

সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকায় খালেদ খান রবিন (ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো।

একই অভিযোগে গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসাইনকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।

কবিরের বহিষ্কারের বিষয়ে বলা হয়েছে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে,

সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে কবির হোসাইন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কবি জসীম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগ)-কে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো।

আরও সংবাদ

আলেমদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নিন্দা

কাউসার লাবীব: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ মামলা করায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। আজ সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি অশুভ শক্তি দেশের শান্তি প্রিয় আলেম সমাজকে সরকারের মুখমুখি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনসাধারণকে উস্কানি দিয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। তারা প্রথমে হুমিক-ধমকি দিয়ে এবং মাহফিলে বাধা প্রদান করে দিয়ে ওলামায়ে কেরামকে স্তব্ধ করতে না পেরে এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পথ বেচে নিয়েছে। আমরা এই হয়রানি মূলক ভিত্তিহীন মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বর্তমান হেফাজতের নেতৃত্বাধীন ওলামায়ে কেরামকে মামলা দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।

মামলার বাদী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সম্পর্কে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ একটি দেশবিরোধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন। শুরু থেকেই এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য খ্যাত। সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন ছাত্র-আন্দোলনের সময় সংগঠনটি আন্দোলনরত নিরীহ ছাত্রদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলাকে আমরা বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্তের অংশ মনে করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এদের দ্বারা প্ররোচিত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, সরকারের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষী উগ্র সেকুলার গোষ্ঠী সরকারকে ভুল প্ররোচনা দিচ্ছে। এবং সেইসাথে সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর কতিপয় নেতা ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অশুভন ও বেয়াদবিমূলক এবং অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য ও উস্কানি দিচ্ছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান করছি, কোন ষড়যন্ত্রকারী মহল যেন রাজনৈতিক উস্কানী দিয়ে দেশের শান্তি সৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়। আপনার সঠিক ও দূরদর্শী নির্দেশনা দেশকে সংঘাতের পথ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমরা আশা করি সরকার এমন কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত দিবেন না, যাতে সরকারের সাথে ওলামায়ে কেরামকে চরম শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল স. এর সুস্পষ্ট নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে ভাস্কর্য বানিয়ে কবরে শায়িত বঙ্গবন্ধুকে আযাবের সম্মুখীন করবেন না।

তিনি আরো বলেন, আমরা নান্দনিকতা, শিল্পকলা ও স্থাপত্যকলার বিরুদ্ধে নই। তবে প্রাণী বা মনুষ্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, যা ইসলাম সর্বক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যেও কোনো মতান্তর নেই। ফলে সরকারকে ভাস্কর্য বিষয়ে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য ও ফতোয়া ভালোভাবে পড়ে অনুধাবন করার আহ্বান জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *