মুশতাকের স্ট্যাটাসে সংহতি জানিয়ে নুরু সাকি দের খালিপায়ে মিছিল

লেখক মুশতাক আহমেদের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস ‘আমার জুতাগুলো মনে করছে তার মালিক মরে গেছে’ এই স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে জুতা হাতে খালি পায়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহবাগে লেখক মুশতাকের গায়েবানা জানাজা শেষে শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এই বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভ শেষে শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘মুশতাক কিংবা আবরার ফাহাদ আমাদের কথা বলেছেন বলেই তাদের মরতে হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই তাদের জন্য দাঁড়াইনি। এই কাজটা আমাদের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যায় হচ্ছে জেনেও আপনারা যারা এখনো নীরব রয়েছেন, সুবিধা পাওয়ার জন্য চুপ আছেন, তাদের বলতে চাই, মীর জাফরের মতো আপনাদেরও আমরা মনে রাখবো। এই সরকার একদিন ধ্বসে পড়বে। তখন আপনাদের দিকে তাকানোর মতো কেউ থাকবে না। আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, এখনো সময় আছে, সত্যের পাশে দাঁড়ান, ন্যায়ের পথে দাঁড়ান।’

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর উদ্দেশে শহিদুল আলম বলেন, ‘আমার বন্ধু গওহর রিজভীর মতো আরও যারা আছেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই— আপনারা কী সুবিধা পাচ্ছেন জানি না, কিন্তু এই সুবিধা বেশিদিন পাবেন না আপনারা।’

সমাবেশে বর্তমান সরকারের আমলে হওয়া অত্যাচার সামরিক শাসনকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে দেশের যে খারাপ পরিস্থিতি, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি। এমনকি সামরিক শাসনের আমলেও হয়নি। বর্তমান সময়ে সরকারের অত্যাচার সামরিক শাসনের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

জনগণ ভোট দিয়ে সেবক বানায় জানিয়ে ভিপি নুর বলেন, ‘এদেশের জনগণ ভোট দিয়ে কোনো রাজা-রাণী বানায় না। সেবক বানায়। অথচ এই জনগণই যখন তাদের বিরুদ্ধে দুই চারটা কথা বলে তখন তাদের মান চলে যায়! আসলেই কি আপনাদের মান আছে?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দীন খান বলেন, ‘সম্প্রতি আল জাজিরার একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ হওয়ার পর আমরা দেখেছি, কিছু মানুষ নিজেদের “প্রধানমন্ত্রীর লোক” বলে দাবি করছেন। যখন কেউ প্রধানমন্ত্রীর লোক হয়ে যায়, তখন সে আর মানুষ থাকে না।’

বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন করার ক্ষমতা লুপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, ‘যারা চিন্তা করতে পারে, তারাই এখন সরকারের প্রতিপক্ষ । বিএনপি-জামায়েতের আন্দোলন করার ক্ষমতা আগেই লুপ্ত হয়েছে। কারণ তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তারাও একই কায়দায় গুম-খুন করেছে।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফয়জুল হাকিম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী, অনুবাদক-লেখক গৌরাঙ্গ হালদার, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য হাসনাত কাইয়ুম, মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *