মামুনুল হকদের কোনো সম্মান নেই : সনজিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকারের প্রশাসনে সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংগঠিত ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও দেখলাম না মুখ খুলতে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজনও কি নেতা নেই এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার? শাল্লায় হামলার আগে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। প্রশাসনকে জানানোর পরও প্রশাসন কেন এ ভূমিকা পালন করল? এ প্রশাসনে সব সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করে ঢাবি ছাত্রলীগ।

সনজিত আরও বলেন, ‘আমরা মুজিব আদর্শের রাজনীতি করি, আমরা ছাত্রলীগ করি, আমরা সকল সংগঠনের ভুল ধরতে পারি, সংগঠন হিসেবে আমরা অনেক প্রাচীন সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার এক ভাষণে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ভুল করতে পারে, কিন্তু আমার ছাত্রলীগ ভুল করতে পারে না।’

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটি ধর্মের প্রতি সম্মান রয়েছে। কিন্তু এ মামুনুল হকদের কোনো সম্মান নেই।’

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকারকে যারাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজপথে নেমে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে তখন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর জাতীয় উদযাপনের সাথে সংহতি প্রকাশ না করে একটি জনবিচ্ছিন্ন শক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ঢাকা শহরে বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, এ দায়িত্বে যারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজপথে এসে তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশে আসার বিরোধিতা করে

বলেন, ‘এ বামপন্থী সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। এসব প্রগতিশীল সংগঠনগুলো যখন দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে, তখনই তারা হিরন্ময়ভাবে নীরবতা পালন করে, অথচ আরেক দেশের সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিয়ে তাদেরকে উচ্চকিত হতে দেখা যায়। আজকে তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি উৎপল বিশ্বাস, সাইফ উদ্দিন বাবু, রাকিব হোসেন, তিলোত্তমা শিকদার, নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *