বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতির পদত্যাগ

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করতে গেলে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। ভাস্কর্য স্থাপনের ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে তিনি এখনো পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির কারো কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। শুধুমাত্র ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সোমবার (১২ এপ্রিল) মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশীদ, শাহবাগ থানার ওসি মামুন উর রশীদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম উপস্থিত ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানাই। দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেই। মনে করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করবে। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের বাধা দেয়। আমি মনে করছি এ আমার ব্যর্থতা। এর দায়ভার কাঁধে নিয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতির পদটি ত্যাগ করলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুর রহিম বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা, মর্যাদার সর্বোচ্চ প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যেনতেন ভাবে স্থাপনে করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটি স্থাপন করতে হলে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট আছে, সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের দরকার আছে। তাররা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করে গোপনে এখানে ভাস্কর্য স্থাপনের চেষ্টা করলে আমরা তাদের বিরত থাকতে অনুরোধ করি। পরবর্তীতে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাযথ স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।

এদিকে আমিনুল ইসলামের পদত্যাগ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন তিনি এখনও আমাদের কমিটির কারো কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তবে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটি আমরা দেখছি । কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ হবে কিনা সেটি আগামী জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আল মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগ ও ভালোবাসা থেকে সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের কথা বলেছে। এটা সাংগঠনিক নিয়ম নয়।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাধ্য করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *