ফেসবুক-টুইটারকে ‘না’ বলে দিচ্ছেন মঈন আলীরা

দুনিয়াটাই এখন এমন। টিভি পর্দায় ম্যাচ দেখা হচ্ছে, প্রতিক্রিয়া ফুটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মনমতো হলে ভালো, না হলে পিণ্ডি চটকানো হচ্ছে খেলোয়াড়দের। করা হচ্ছে বর্ণবাদী মন্তব্যও। এ নিয়ে কিছুদিন পরপরই বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় খেলোয়াড়দের।

ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল বুঝি এর বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান নিতে যাচ্ছে। অনলাইনে গালাগালি এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বয়কটের কথা ভাবছে দেশটির জাতীয় ক্রিকেট দল, জানিয়েছেন তারকা পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড।

কিছুদিন আগে টুইটারে মঈন আলীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তুমুল সমালোচিত হন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ইংলিশ অলরাউন্ডারকে নিয়ে তিনি টুইট করেছিলেন, ‘মঈন আলী ক্রিকেট না খেললে সিরিয়া গিয়ে আইএসআইয়ে যোগ দিত।’ এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলা অন্যান্য ক্রিকেটার প্রতিবাদ জানিয়ে তসলিমা নাসরিনের টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে টুইটও করেছিলেন। তসলিমা নাসরিনের মন্তব্যের প্রতিবাদ ইংল্যান্ড জাতীয় দলের যে তারকা সবচেয়ে বেশি করেছিলেন, সেই জফরা আর্চারও বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন তার কিছুদিন আগে।

এ নিয়েই কথা বলেছেন ব্রড। পিএ মিডিয়ায় ৩৪ বছর বয়সী ইংলিশ ফাস্ট বোলারের কথা, ‘আমার মনে হয় এ নিয়ে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বয়কট করা) নিয়ে কথা হওয়া উচিত। অনেক শক্ত একটা বার্তা দেওয়া হবে এতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যে আনন্দটা আপনি পান, সেটা গুটিকয়েক মানুষের জন্য নষ্ট হোক, তা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না। এটাকে বন্ধ করার জন্য কি আমাদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, নাকি এসব অ্যাপের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে আরও দায় ও দায়িত্ব নিতে হবে?’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ যুগে অনেকটা অবিচ্ছেদ্য অংশ ঠিকই, কিন্তু এভাবে সেটির জন্য মানসিক শান্তি নষ্ট করতে রাজি নন অনেকে। ব্রডও সে দলেই, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ভালো দিক আছে। কিন্তু অল্প কিছু সময়ের জন্য সেগুলোকে বাদ দিয়ে যদি একটা বার্তা দিতে হয়, তবে আমি তাতে পুরোপুরি রাজি।’

কদিন আগে মঈন আলী টুইটারে হেনস্তা হয়েছেন। তার আগে জফরা আর্চার শিকার হয়েছেন বর্ণবাদী মন্তব্যের। জফরার উদাহরণটা টেনে ব্রড বললেন, ‘জফরাকে যে রকম বার্তা পাঠানো হয়েছে, সে রকম বার্তা আমার সতীর্থদের কাউকে পাঠানো হতে পারে…এটা তো বিশ্বাসই করা যায় না! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তেমন কিছু রাস্তায় কেউ কাউকে বললে সেটার ফল তো নিশ্চয়ই ভালো হবে না, তাই না?’

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল যে একেবারে অভূতপূর্ব কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে, তা-ও অবশ্য নয়। বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়ে ইউরোপের ফুটবলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরে যাওয়ার উদাহরণ অনেক আছে। ফ্রান্সের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি কদিন আগে বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রতিবাদে টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ায় ইংলিশ পেশাদারি লিগের ফুটবল ক্লাব সোয়ানসি ও বার্মিংহাম সিটি এক সপ্তাহের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে।

স্কটল্যান্ডে অবিশ্বাস্য ফুটবলে এরই মধ্যে লিগ জিতে নেওয়া রেঞ্জার্সও ব্যতিক্রম নয়। লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডের অধীনে এখন পর্যন্ত লিগে অপরাজিত দলটাও এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুক-টুইটার বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *