পাট গেল, চামড়া এলো, পোষাক যাবে এর পর কি ?

আ.আ.মারুফ

১৯৫৯ সাল মানে পাকিস্থান আমলের কথা ৩ লোক মিলে গরু কিনেছিলেন ৮ টাকা দিয়ে আর চামড়াটাই বিক্রি করেছিলেন সাড়ে ৮ টাকা। সেই গোস্ত মাথায় করে নিয়ে রান্নঘরে যেত লোকজন।

এরশাদের জমানায় মাঝে মধ্যেই পাওয়া যেত চামড়া ছাড় গরু। বিল, পাট কিংবা ধান ক্ষেত ছিল তদানিন্তন ডাকাতদের গরু ছিলার জায়গা। একবার বিলের পাশে পাওয়া গেলো মুন্নু চাচার চামড়া ছাড়া গরু। পাশেই চিরকুটে লেখাছিলো “বিসমিল্লাহ বলে জবাই করা হয়েছে,আপনারা গোস্ত খেতে পারবেন,চামড়াটা আমরা নিয়ে গেলাম”

গত ২১ জুলাই’২১ হয়ে গেল মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তর উৎসব ঈদুল আযহা। ছিয়ানব্বই হাজার টাকার গুরুর চামড়া বিক্রি হল ১৩০ টাকা।
চামড়া শিল্পের এই বেহাল দশাটা একেবারে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করে আসছি। ২০১৬ সালের কথা তখনো পাড়ায়-পাড়ায় বাসায় বাসায় গিয়ে চামড়া কালেকশন করে নিয়ে এসে বিকালে বিক্রি করলে মোটামুটি ভালো একটা দাম পাওয়া যেত। সবচেয়ে দুরবস্থা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। সেবারই প্রথম নিজের গরুর চামড়া টা সরানোর জন্য মানে ময়লার স্তূপে ফেলে আসার জন্যই গেটের দারোয়ানকে আমার দিতে হয়েছিল দুইশত টাকা। খুবই সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হল চামড়া শিল্পের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কে। ইদানিং ফেসবুকে একটা বিষয় খুব ঘুরপাক খাচ্ছে যে ২০১৫ সালে যে জুতার দাম ৬০০ টাকা এখন সেই চামড়ার জুতা দাম হাজার টাকা কিন্তু চামড়ার দাম কমে কিভাবে?

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে পাট আর চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে আমাদের অসংখ্য মানুষ রিক্ত হস্ত হয়েছে। তারপরের টার্গেটে পরিনত হয়েছে পোষাক শিল্প।
কি বা কার জন্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পগুলোকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। সত্যিই এ পর্যন্ত যদি লিখতে পারতাম সরকারকে এ ব্যাপারে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাহলে খুবই ভাল লাগত কিন্তু বাস্তবতা এটাই সরকার পদক্ষেপ নেবে না। জনগণের ও ভোগান্তি কমবে না। চেয়ে চেয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই মুজিব বর্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *