দেশের খেলা থাকাতেই আইপিএলে সুযোগ পাননি লঙ্কান ক্রিকেটাররা: সাঙ্গাকারা

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সব সময়ের সেরাদের একজন তিনি। খেলা ছাড়ার পরও বিভিন্ন ভূমিকায় ব্যাপক কদর কুমার সাঙ্গাকারার। আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসের ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন। নিলাম থেকে নিজ দেশের খেলোয়াড় টানার সুযোগ ছিল তার। সেটা করেননি। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও লঙ্কান ক্রিকেটারদের ব্যাপারে আগ্রহী দেখা যায়নি।  তা না হওয়ার কারণ হিসেবে সাঙ্গাকারা জানালেন, দেশটির আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কথা।

এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ আছে শ্রীলঙ্কার। মে মাসে তারা আবার বাংলাদেশে এসে খেলবে তিন ওয়ানডে। এই সময়টাতেই হবে আইপিএল।

বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান কলকাতা নাইট রাইডার্সে দল পেয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট না খেলার। আইপিএলের জন্য তাকে ছুটিও দিয়ে দিয়েছে বিসিবি।

কিন্তু শ্রীলঙ্কায় এই বাস্তবতা নেই। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাঙ্গাকারা জানালেন,  লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে বেশ কয়েকজন নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখালেও লঙ্কানদের খেলা থাকায় আইপিএলের দলগুলো আর তাদের পেতে আগ্রহ হয়নি, ‘মুশকিলের ব্যাপার হলো শ্রীলঙ্কার ওই সময়টায় খেলা থাকায় কতদিন তাদের পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এই কারণেই লঙ্কান ক্রিকেটারদের দলে নিতে সাহস করেনি আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।’

‘লঙ্কান ক্রিকেটারদের আইপিএলে না দেখার এটাই বড় কারণ। অবশ্যই তাদের সামর্থ্যের ঘাটতির কোন বিষয় না এখানে।’

আইপিএলের নিলামের আগে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও নিলামে উঠা ক্রিকেটারদের জানাতে হয় তারা আইপিএলের সময়টায় ফাঁকা আছেন কিনা। বাংলাদেশের সাকিব আইপিএলের পুরো সময়টায় নিজেকে ফাঁকা দেখিয়েছেন। ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছেন নাইট রাইডার্স। একইভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকেও ১ কোটি রুপিতে দলে নেয় রাজস্থান।

সাঙ্গাকারা জানান, যার যার বোর্ডের সায় ছাড়া আসলে এখানে কিছুই করার নেই, ‘এখানে বুঝতে হবে চুক্তিটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক চুক্তি। আইপিএলের চুক্তিটা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ছাড়পত্রের উপর।’

আইপিএলে যুক্ত হওয়া সাবেক এই কিপার ব্যাটসম্যানের মতে আইপিএলের সময়টা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না রাখা উচিত। সেরা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লম্বা করতে যা জরুরি,  ‘আমি নিশ্চিত এখানে ভারসাম্যে সমস্যা হয়। আদর্শ ভারসাম্য বলতে কিছু নেই। কিন্তু কিছু বোর্ড খেলোয়াড়দের সুবিধার কথা ভেবে ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।’

‘এটা একটা চিরকালীন বিতর্ক যে আদর্শ ভারসাম্য কি হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইপিএলের একটা ফাঁকা জায়গা থাকা উচিত।’

‘সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ভারসাম্য নিয়ে ভাবতে হবে। যাতে করে আপনার সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারটা প্রলম্বিত হয়।’

টি-টোয়েন্টির রমরমা লিগ আইপিএলকে বলা হয় মিলিয়ন ডলার আসর। সুযোগ পেলে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নিতে পারেন মাস দুয়েকের টুর্নামেন্টে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর আইপিএল নিয়ে ঘন ঘন তৈরি হচ্ছে সংকট। আইপিএলের লোভ থেকে ক্রিকেটারদের সরিয়ে রাখার উপায় নেই। তাই সংশ্লিষ্ট বোর্ডের উপরই তাই সমাধানের দায় চাপিয়েছেন তিনি, আমরা দেখছি বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মিত মুখোমুখি অবস্থা তৈরি হচ্ছে এজন্য। আমরা দেখছি অনেকে আগেভাগে অবসরে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যাতে অনেক দীনহীন হয়ে যাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *