ঢাবিতে ‘চা-চপ-সিঙ্গাড়া’ নিয়ে কথা বললেই শাস্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্যকে ব্যঙ্গ করলে আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে বলে সর্তক করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর উপাচার্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষে এই কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে কোনো বিশেষ মহল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং মানহানি না ঘটাতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ১০ টাকায় ‘চা-চপ-সিঙ্গাড়া’ নিয়ে কথা বলার পর থেকেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও ব্যঙ্গ কার্টুন তৈরি হয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে এ বিজ্ঞপ্তিটি দিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্বল্পমূল্যের খাবারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য মহোদয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি ক্যাম্পাসের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক গৌরবময় অধ্যায়ের কথাও বলেন। আর্থিক সঙ্গতি, পারিবারিক পেশা, জাতি, ধর্ম-সংস্কৃতি ও জন্মস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতাভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সহজ, সরল, সাধারণ ও সাবলীল জীবনাচারের গুরুত্বের কথাও উপাচার্য বলেন। অনুষ্ঠানস্থল টিএসসির গৌরবময় ভূমিকাও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটেরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবাকার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন। বস্তুত সর্বজনীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের জীবনে এসবের প্রতিফলনের পরামর্শ দেন।

করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া পিসিআর ল্যাবের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর কিছু তথ্য ছড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও  বলা হয়,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি; কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ বিলম্বে; কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডজনেরও অধিক আরটি-পিসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেসব দিয়ে জাতির মহাদুর্যোগে সেবাকার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে। এ বক্তব্যটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা হলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই গত বছরের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম ‘কোভিড-১৯ (প্যানডেমিক) রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ গঠন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে কোভিড মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়।

তথ্য সুত্র :ঢাকা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *