ঢাকা: প্রতীক্ষা শেষে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মুঠোফ..

‘ঢাকা: প্রতীক্ষা শেষে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মুঠোফোনে থ্রিজি তরঙ্গসেবা নিয়ে। এই সংশয় ঘোষিত সময়ে থ্রিজি সেবা চালু, এর বিস্তার, মান ও ট্যারিফ মূল্য নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপারেটরগুলোর পক্ষে আগামী মাসে এই সেবা চালু করা দুরূহ হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের এই শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে অপারেটরগুলোর কণ্ঠেও। অপারেটরগুলো বলছে, টেকসই থ্রিজি সেবা নিশ্চত করতে থ্রিজি-সমর্থিত হ্যান্ডসেট কিংবা ট্যাব, ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে সবার সচেতনতা এবং লোকাল কন্টেন্টের পর্যাপ্ততার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে ভয়েস সেবার চেয়ে ডেটা সেবার বাজার চাহিদা না বাড়লে ব্যবসায় সুবিধার অভাবে থ্রিজি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাঁচ অপারেটরের কেউই সাধুবাদ পাওয়ার মতো উদ্যোগ নেবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজনেরা। প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের ইতিহাসে টেলিকম খাতের সবচেয়ে বড় নিলামে থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছে জিএসএম প্রযুক্তির সব কটি অপারেটরই। এদের মধ্য গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা অক্টোবরেই সেবা চালুর ঘোষণা দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে।\r\nএ ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য অপারেটর এয়ারটেল এবং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকা বাংলালিংক এখনো সেবা চালুর তারিখ ঘোষণা করেনি। অবশ্য এক বছরের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটক পরীক্ষামূলক থ্রিজি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ আর সেবার মানের দৈন্যদশার কারণে গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারছে না। দেশের বিভন্ন স্থানে বর্তমানে টেলিটক থ্রিজি সেবা চালু থাকলেও বেসরকারি অপারেটরদের দিকে উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছ নেটিজেনরা। তাদের এই উৎসাহে উদ্দীপ্ত হয়ে আগামী মাস থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমিত পরিসরে থ্রিজি সেবা চালু করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন ও রবি। তবে চলতি বছরের মধ্যেই সিটিএল ছাড়া সব অপারেটরেই সেবা চালু হলেও থ্রিজি তরঙ্গের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে কয়েক বছর লেগে যাবে বলে মনে করছেন সেলফোন অপারেটরগুলো। একই সঙ্গে আগামী মাসেই থ্রিজি সেবা চালুর যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাও সঠিকভাবে পূরণ করা দুরূহ। কেননা লাইসেন্স হাতে পেলেও থ্রিজির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানী করার কাজ শুরু হয়নি। আগামী ১৫ তারিখের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ করতে অন্তত এক মাস সময় লেগে যাবে। সেই হিসিাবে যদি দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষও হয়, সেবা চালু করতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে গ্রাহকদের। সেই হিসাবে দেশে পুরোপুরি থ্রিজি সেবা চালু হতে অপেক্ষা করতে হতে পারে ডিসেম্বর পর্যন্ত। থ্রিজি সেবা চালুতে আরও সময় লাগবে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন টেলিকম খাতের মার্কেট লিডার গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী বিবেক সুদ। তার ভাষায়, ‘ইন্টারনেট কেবল যোগাযোগ অথবা বিনোদিত করার একটি টুল নয়। এটিকে অবশ্যই ব্যবসাসফল হতে হবে। আসলে, দেশে ডেটা ব্যবসায় সম্প্রসারণে আরও একটু সময় লা্গবে। ভয়েস কল যতটা দ্রততম সময়ে দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে, ডেটা ততটা দ্রুত বিস্তার লাভের সম্ভাবনা নেই।” বিবেক বলেন, ব্যবসায় দক্ষতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের মাধ্যমে এই সেবার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সেতুবন্ধ তৈরির ওপর নির্ভর করবে থ্রিজি সেবার ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন, “এখানে থ্রিজি তরঙ্গ বিকাশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে থ্রিজি ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্ত এ জন্য আমাদের প্রয়োজনী কনটেন্ট ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।” থ্রিজি তরঙ্গসেবা নিয়ে একই রকম মন্তব্য করেছেন রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী মাইকেল ক্যুনার। তিন বলেন, “রাতারাতি থ্রিজি আমাদের জন্য বিস্ময়কর কিছু নিয়ে আসবে না। এ জন্য সময় লাগবে। প্রয়োজন হবে গ্রাহকের সচেতনতা এবং এ বিষয়ে তাদের কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ।” ক্যুনার বলেন, “এটা (থ্রিজি সেবা) অনেকটা ব্যবহারসংশ্লিষ্ট বিজনেস কেস। তা্‌ই যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রাহকরা থ্রিজি-সমর্থিত ব্যয়বহুল হ্যান্ডসেট না কিনছেন, তারা থ্রিজি প্রযুক্তির আসল সুবিধা থেকে বিঞ্চত হবেন।”\r\nক্যুনার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত অনলাইনে যেসব কাজ করে থাকে, তার জন্য অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য বিদ্যমান প্রযুক্তিই যথেষ্ট। তাই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে ডাটা সেবার বিস্তার ও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আর তখনই গ্রাহক পরিপূর্ণভাবে থ্রিজির সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। কিন্তু শিগগিরই ডাটা সেবা ব্যবসা টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদা সিতারা। তিনি বলেন, “এ জন্য আমাদের আরও পাঁচ থেকে ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে। তখন হয়তো বাংলাদেশে থ্রিজি ব্যবসা সফল কেস হিসেবে পরিগণিত হবে।” এদিকে ইতিমধ্যেই থ্রিজি যন্ত্রাংশ আমদানির ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি) পেলেও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার সমস্যার কারণে এখনো লাইসেন্স হাতে পায়নি বাংলালিংক। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার চেক জমা দিয়েই লাইসেন্স নেয়া এয়ারটেল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ক্রিস টবিট বলেছেন, অল্পদিনের মধ্যেই দেশে বিশ্বমানের থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করার লক্ষ্যে এয়ারটেল বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই এয়ারটেল বাংলাদেশ কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ তারা সেবা চালু করবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। শুধু বলেছেন, উন্নত মানের বৈশ্বিক থ্রিজি সেবাগুলোর সাহায্যে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনই হচ্ছে এয়ারটেলের প্রধান লক্ষ্য।’, ‘থ্রিজি সেবায় নতুন শঙ্কা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *