ছাত্রলীগ নেতা অভিনীত নাটকে পিস্তল উঁচিয়ে মহড়ার ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কেএম জিল্লুর রহমান জিন্নাহর জন্মদিনে ফেসবুকে দেওয়া একটি ভিডিও নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জিল্লুর রহমান মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। তার পেছনে বসে একজন পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া দিচ্ছেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে মাঠে নেমেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় কেএম শোভন নামের এক তরুণ ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেন। ভিডিওতে তাকেই মোটরসাইকেলের পেছনে বসে পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।

শোভন জানান, তার চাচা কেএম জিল্লুর রহমান জিন্নাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ভিডিওটি পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যাওয়া পিস্তলটি খেলনা পিস্তল এবং এ দৃশ্যধারণ করা হয়েছিল একটি নাটকের জন্য।

কেএমভি মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় আব্দুল আউয়ালের পরিচালনায় নাটকটিতে জিল্লুর রহমান জিন্নাহ ও শোভনসহ অনেকেই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর ১৬ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ‘নেতা’ নামের এ শর্টফিল্মটি ইউটিউবে আপলোড দেয়া হয়। সেখান থেকে ১৫ সেকেন্ডের একটি ক্লিপস তিনি চাচা জিন্নাহর জন্মদিনে ফেসবুকে আপলোড দিয়েছেন বলে জানান।

ভিডিওটি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছে পুলিশ। নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিকভাবে পিস্তলটি খেলনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে খেলনা হলেও এ ধরনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ঠিক হয়নি।

১৫ সেকেন্ডের এ ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশের রাস্তায়। ভিডিওটিতে কোনো তারিখ বা সময় উল্লেখ নেই। ভিডিওটি পোস্ট করার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৪টার মধ্যে ৪৫১ জন ভিডিওটি দেখেছেন, ৩১ জন মতামত দিয়েছেন ও ২১৫ জন শেয়ার করেছেন। তবে সন্ধ্যার দিকে ভিডিওটি শোভনের ফেসবুক আইডি থেকে ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।

কেএম জিল্লুর রহমানের বড়ভাই বনপাড়া পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাই ও ভাতিজার মাথায় বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। নাটকের একটা দৃশ্য পোস্ট করে শুধু শুধু হইচই ফেলে দিয়েছে। ওটা আসল পিস্তল নয়। ওদের ইউটিউবে ছাড়ার জন্য শুটিং করেছিল মাত্র।

ভিডিওটি নিজ ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করার কথা স্বীকার করে কেএম শোভন বলেন, ওই দৃশ্য ‘নেতা’ নামের একটি নাটকের শুটিং করার সময় ধারণ করেছিলেন। চাচার জন্মদিনে অন্য কোনো ছবি পাচ্ছিলেন না। তাই শুভেচ্ছা হিসেবে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। এতে যে এতকিছু হবে এটা আগে ধারণা করেননি। ছাড়ার পর বুঝেছেন, এটা পোস্ট করা ঠিক হয়নি।

বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে তারা ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। তদন্তে ভিডিওটি ‘নেতা’ নামের একটি শর্টফিল্ম থেকে নেওয়া বলে মনে হয়েছে। দেখানো পিস্তলটি প্লাস্টিকের এবং সেটাও তারা জব্দ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *